শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ১০:০৮ অপরাহ্ন
নোটিশ:
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। * অফিসের ঠিকানাঃ জিএস ভবন, আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠের পশ্চিমে, শেরপুর রোড, সাতমাথা, বগুড়া। মোবাইলঃ ০১৭১১ ৪২৭৩১৬ ইমেইলঃ jonotatv.com@gmail.com * এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

শূন্য মানের বহুমাত্রিকতা

Reporter Name / ৫১ Time View
Update : শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৫

শূন্য (০) ডিজিটের নিজস্ব কোন মান নেই। তবে এ অঙ্কটি/সংখ্যাটি অন্য একটি অঙ্ক যেমন ১-৯ পর্যন্ত যেকোন অঙ্কের ডানে বসে তা সে অঙ্কের/সংখ্যার মান বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ভারতবর্ষে আবিস্কৃত (০) এ অঙ্কটির যেমন রয়েছে পজিটিভ ধারণা তেমনি রয়েছে এর নানাবিধ নেগেটিভ ধারণা। বিভিন্ন উদাহরণের সাহায্যে শূন্য মানের বহুমাত্রিক রূপ তুলে ধরা হলো।

মহাবীর আলেকজান্ডার দি গ্রেট (৩৫৬ খ্রিস্টপূর্ব-৩৩৩ খ্রিস্টপূর্ব) মাত্র ৩৩ বছরের জীবদ্দশায় বহু দেশ বহু রাজ্য জয় করেছিলেন। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে সৃষ্টি করেছিলেন বহু পথ। কিন্তু সভ্যতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে এবং মানবতার কল্যাণে তার কোনো আগ্রহই ছিল না। তার একটি বাণী ছিল আর তাহলো- ‘ধ্বংস আর মৃত্যুর মাধ্যমে বিজয় অর্জন কর’। সম্ভবত সেজন্য অর্থাৎ তার ধ্বংস ও নির্বিচারে মানব হত্যার নৃসংশ নির্মমতার প্রায়শ্চিত্ত করতে মৃত্যুার আগে তিনি তার সেনাপতিদের কাছে ডেকে বলেছিলেন, ‘আমার মৃত্যুর পর কফিন বহনের সময় আমার দুই হাত কফিনের বাহিরে ঝুলিয়ে রেখো।’ সেনাপতিরা তার এ অভিপ্রায়ের কারণ জানতে চাইলে তিনি মৃদৃ হেসে বলেন, ‘এই দৃশ্যের মধ্য দিয়ে আমি পৃথিবীর মানুষকে জানাতে চাই যে আমি শূন্য হাতেই এই পৃথিবীতে এসেছিলাম, আবার শূন্য হাতেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছি।’ সুতরাং বুঝা যায় যে, কোনো কর্ম যদি মানবতার কল্যাণে না হয় তবে তার ফল শূন্য।

কিন্তু এ শূন্য অঙ্কটির রয়েছে অনন্য ও বহুমাত্রিক মান। বর্তমান আধুণিক বিজ্ঞানের বিষ্ময় কম্পিউটার তার কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য যে দুটি ডিজিট অনুসরণ করে তার মধ্যে শূন্য একটি। এছাড়াও শূন্য ডিজিট কল্পনা করে আমরা যে সুবিধাগুলো পেতে পারি সেগুলো হলো-
ক. যদি কোনো পজিটিভ পূর্ণ অঙ্ক/সংখ্যার ডানে শূন্য বসানো হয় তবে সে সংখ্যার/অঙ্কের মান বাড়ে।
খ. শূন্য সন্ত্রাসবাদ মানুবকূলকে সুখী করে।
গ. শূন্য দুর্নীতি একটি দেশ ও জাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি।
ঘ. শূন্য স্বজনপ্রীতির হার মানুষের সমধিকার নিশ্চিতকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
ঙ. শূন্য বৈষম্য নারী-পুরুষের অর্থাৎ লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে সাহায্য করে।
চ. শূন্য দারিদ্রতার হার মানুষের জীবন মান উন্নত করে।
ছ. শূন্য বেকারত্ব সমাজে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস করে।
জ. শূন্য কার্বণ নিঃসরণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
ঞ. সরকারি-বেসরকারি অফিসে শূন্য ভোগান্তির মাত্রা সেবাপ্রাপ্তির মান তুষ্ট করে।
ট. শূন্য রক্ষণাবেক্ষণ খরচ একটি পণ্য/দ্রব্যের/জিনিসের টেকসইতা নির্দেশ করে।
ঠ. শূন্য জামানতে কৃষি/ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রদত্ত ঋণ আয় বৈষম্য হ্রাস করতে পারে।
ড. সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের প্রতি শূন্য সহিষ্ণুতা সুশাসনের জন্য সহায়ক।

শূন্য সংক্রান্ত উপর্যুক্ত ধারণাসমূহ পজেটিভ মান নির্দেশক। তবে শূন্য মানের কিছু নেগেটিভ দিকও রয়েছে। যেমন- কোনো শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষার খাতায় শূন্য মার্কস পায় তবে তার একাডেমিক ক্যারিয়ার নিম্নগামী ধরে নেয়া হয়। আবার কোনো ক্রিকেটার যদি কোনো ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয় তবে তা হবে তার জন্য হতাশাজনক। এমনকি সে খেলোয়াড়ের পারফরমেন্সের জন্য পুরো দলের পরাজয়ের কারণ হতে পারে। শূন্য আয়ের একটি মানুষের পরিবারে সুখ নামক সোনার হরিণের দেখা কোনোকালে নাও মিলতে পারে। শূন্য মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়তে পারে।

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) যদি সমগ্র দুনিয়ার সব মানুষকে আধুনিক অস্ত্রের সাহায্যে মেরে ফেলে। মানব সভ্যতার সব নিদর্শন বিনষ্ট করে তবে তারা ধর্ম প্রচার করবে কার কাছে? কার মঙ্গলে? কোন সভ্যতা বিনির্মাণে তাদের কর্মযজ্ঞ প্রতিষ্ঠিত হবে? বরং কিছুই হবে না। সব শেষে অবশিষ্ট রইবে শুধু শূন্যতা। সুতরাং শূন্যতা সৃষ্টি করে নয়। বরং শূন্যতাকে মঙ্গলময় করে পরিপূর্ণতা দান করে সমাজ, রাষ্ট্র বা দেশ থেকে সকল অনাচার দূর করা সম্ভব। নেগেটিভ শূন্য মানকে পজিটিভ করে একটি জাতির মঙ্গল হতে পারে। শূন্যের অন্তর্নিহিত মান মানব মনে জাগ্রত করবার মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি, একটি দেশ তথা পুরো জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে সক্ষম হতে পারে।

লেখক : প্রভাষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ সহকারী প্রক্টর
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী
মেইল : shyamoluits@gmail.com


এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর